উদ্যোগ—"কর্মসংস্থান সৃষ্টির একটি সেরা অর্থনৈতিক পরিকল্পনা". ......-----লিংকন ভদ্র
একটি দেশের প্রকৃত অর্থনৈতিক উন্নয়ন তখনই টেকসই হয়, যখন দেশের জনগণ উৎপাদনশীল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকে।
এ প্রেক্ষাপটে তরুণদের শুধু চাকরিপ্রার্থী হিসেবে নয়, বরং উদ্যোক্তা ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী হিসেবে গড়ে তুলতে বাংলাদেশ ব্যাংক ‘উদ্যোগ (UDYOG)
কর্মসূচির সূচনা করেছে।
এর আওতায় উপজেলাভিত্তিক তরুণ উদ্যোক্তা অনুসন্ধান, চিহ্নিতকরণ ও অর্থায়ন কর্মসূচি পরিচালনা করা হবে।
এর মূল দর্শন হলো—তরুণদের সম্ভাবনাময় ব্যবসায়িক ধারণাকে বাস্তব উদ্যোগে রূপান্তরিত করা এবং উৎপাদনশীল কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত নীতিমালা অনুযায়ী, নির্বাচিত উদ্যোক্তার প্রকৃত ব্যবসায়িক প্রয়োজন ও ব্যয় পরিকল্পনার ভিত্তিতে সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থায়নের সুযোগ রয়েছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা ব্যাংকঋণ এবং সমপরিমাণ অর্থ অনুদান হিসেবে দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। এর আওতায় সুদের হার উদ্যোক্তার ধরন অনুযায়ী ৪% থেকে ৭%।
📌 উদ্যোগ ঋণের সুদের হার
স্টার্টআপ উদ্যোক্তা-৪%
নারী উদ্যোক্তা-৫%
অন্যান্য উদ্যোক্তা-৭%
√√ জামানত ছাড়াই অর্থায়নের সুযোগ।
অতএব, ‘উদ্যোগ’ কর্মসূচির সাফল্য শুধু কতজন উদ্যোক্তা অর্থায়ন পেলেন, তা দিয়ে বিচার করা উচিত নয়; বরং তাঁদের উদ্যোগ কতটা টেকসই হলো, কতজনের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হলো এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে কতটা মূল্য সংযোজন ঘটল, সেটিও বিবেচনা করা প্রয়োজন।
অধিকন্তু, আমি মনে করি কর্তৃপক্ষের উচিত, কার্যকরী ম্যানেজমেন্ট টিম গঠন করা।
যে সকল সরকারি অফিস এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানে লোকবল তুলনামূলকভাবে বেশি তাদের কাজে লাগানো। সফল টিমকে স্পেশাল ইনসেন্টিভ এবং রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি প্রদান করার ব্যবস্থা করা।
""কার্যকরী ম্যানেজমেন্ট টিম ""এর যোগ্যতা নিম্নরূপ হতে হবে,
=দেশের কল্যাণে কাজ করার মন মানসিকতা।
=রাজনৈতিক বলয়ের বাইরে কাজ করার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
=প্রতি জেলার জন্যে কমপক্ষে ১০ জনের একটা টিম থাকা জরুরী। তন্মধ্যে কমপক্ষে ১ জন মনোবিশারদ, ১ জন MBA, ১ জন পরিসংখ্যানবিদ এবং ১ জন অর্থনীতিবিদ হতে হবে। তাদের কাজ হবে উপযুক্ত উদ্যোক্তা নির্বাচন, তাদের ব্যবসায়িক পরিকল্পনার যথাযথ মূল্যায়ন, প্রয়োজন অনুযায়ী তাদের জন্য কার্যকর পরিকল্পনা প্রনয়ণ, বাস্তবায়ন এবং নিয়মিত তদারকি করা।
=উপজেলা ভিত্তিক আলাদা কমিটি থাকবে। যে কমিটির কাজ হবে জেলা কমিটির সুপারিশ বাস্তবায়ন করা।এর মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে নতুন ব্যবসা গড়ে তোলা এবং বিদ্যমান ব্যবসার সম্প্রসারণের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।
আমার মতে, এ পরিকল্পনার যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা সম্ভব হলে, আগামী ১৫-২০ বছরে আমরা উন্নত দেশের সমপর্যায়ে চলে যাবো।
একটা উদাহরণ দিয়ে বিষয়টা সহজেই বোঝা যেতে পারে।
মি: করিম কে উদ্যোক্তা হিসেবে নির্বাচন করা হইলো-,ঋণ-১০লাখ, অনুদান -১০ লাখ
পরিস্থিতি ১-::করিম টাকা দিয়ে কিছুই করলো না।
তবে কি তার লাভ হবে?
উত্তর -হবে।
কিভাবে-?
অন্যান্য বিষয় অপরিবর্তিত থাকলে,
মনে করি সে ৫ বছরে তার লোন পরিশোধ করবে।
৭% হারে থাকে মোট পরিশোধ করতে হবে=১১৮৮০৭১ টাকা
২০ লাখ টাকার FDR করলে ৫ বছর পর সে পাবে- ২৯৩৮৬৫৬ টাকা
কিছু না করেও লাভ=১৭ লাখ ৫০ হাজার ৫৮৫ টাকা।
পরিস্থিতি ২::
যদি সে বিনিয়োগ করে,তবে কমপক্ষে
১৫-২০% হারে লাভ পাবে।
তাহলে ৫ বছর পর তার লাভ হবে-৪৯৭৬৬৪০.
এই কর্মযজ্ঞে প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে কমপক্ষে
১০-১৫ জন মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।
তবে সফলতা নির্ভর করবে জেলা কমিটির উপর।
বাংলাদেশ ব্যাংক যে সমপরিমাণ অনুদান দিবে তার লস হবে না?
উত্তর: হবে না।
এর ব্যাখ্যা অন্য একদিন লিখবো।
জেলাকমিটির মূল কাজ ---
=রাজনৈতিক পরিচয়, ব্যক্তিগত সম্পর্ক বা প্রভাবের পরিবর্তে ব্যবসায়িক ধারণার বাস্তবতা, উদ্যোক্তার সক্ষমতা এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির সম্ভাবনার ভিত্তিতে নির্বাচন করতে হবে।
= প্রতিটি উপজেলার সম্পদ, বাজারের চাহিদা এবং সম্ভাব্য ক্রেতাদের বিবেচনায় নিয়ে ব্যবসায়িক পরিকল্পনা মূল্যায়ন করা উচিত।
= অনুমোদিত ব্যবসায়িক পরিকল্পনা অনুযায়ী অর্থ ব্যয় হচ্ছে কি না, তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে হবে। একই সঙ্গে উদ্যোক্তাদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিতে হবে।
= উদ্যোক্তাদের পাইকারি বাজার, খুচরা বিক্রেতা, প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠান এবং অনলাইন বিপণনব্যবস্থার সঙ্গে সংযুক্ত করার উদ্যোগ নিতে হবে।
= যোগ্য নারী উদ্যোক্তা, গ্রামীণ তরুণ এবং সুযোগবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে করতে হবে।
= অর্থায়নের পর ব্যবসার টিকে থাকার হার, ঋণ পরিশোধের অবস্থা, নতুন কর্মসংস্থান, উদ্যোক্তার আয় এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে মূল্য সংযোজনের তথ্য সংগ্রহ করে কর্মসূচির কার্যকারিতা মূল্যায়ন করা উচিত।

No comments